গীতার স্থান, কাল ও পাত্র । পর্ব-৮
ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত ............।।
শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতায় পার্থসারথি কে ? শ্রী গীতা ইহার পরিচয় কতদূর দিবেন, আমরা এখানে তাহার আলোচনা অসঙ্গত মনে করি না ।
গীতা শাস্রে "ভগবান্ উবাচ" এই কথায় শ্রীকৃষ্ণকেই যে লক্ষ্য করা হইয়াছে, তাহাতে কাহারও কোন সন্দেহ নাই । এই শ্রীকৃষ্ণ যে অবতার, ইনি যে মায়া-মানুষ, ইনিই যে ধর্ম্মের গ্লানি এবং অধর্ম্মের অভ্যুত্থান হইলে অবতীর্ণ হইয়া সাধুদিগের পরিত্রাণ এবং অসাধুদিগের বিনাশ সাধন করিয়া যুগে যুগে ধর্ম্ম সংস্থাপন করেন, তাহাও গীতাশাস্রে পাওয়া যায় ।
"শ্রীভগবানুবাচ"-তে পাওয়া যায়-
অজোহপি সন্নব্যইয়াত্মা ভুতানামীশ্বরোহপি সন্ ।
প্রকৃতিং স্বামধিষ্ঠায় সম্ভবামায়াত্মায়য়া ।।৪-৬
এই শ্রীভগবান্ শ্রীকৃষ্ণই অজ- জন্মরহিত ; ইনিই আবার ভূতসমূহের ঈশ্বর; ইনি আপনার প্রকৃতিতে অধিষ্ঠান করিয়া আত্মমায়া দ্বারা জন্মগ্রহণ করেন ।
এই শ্লোকে পাওয়া যাইতেছে,- যাঁহার জন্ম নাই, যিনি অব্যয় আত্মা, যিনি প্রাণীসমূহের ঈশ্বর, তিনিই তাঁহার প্রকৃতিতে অধিষ্ঠান করেন এবং আত্মমায়া প্রভাবে শ্রীকৃষ্ণরূপে জন্মগ্রহণ করেন ।
আমরা এখন জিজ্ঞাসা করি, যাঁহার জন্ম নাই, যিনি অজ, তিনি কোন্ বস্তু ?
শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতাতে জীবের আত্মাকেও অজ বলা হইয়াছে । এই জীবাত্মাই অবিনাশী, ইনিই অব্যয়, শরীরের বিনাশে ইহার বিনাশ হয় না ।
ন জায়তে ম্রিয়তে বা কদাচি-
ন্নায়ং ভুত্বা ভবিতা বা ন ভুয়ং ।
অজো নিত্যঃ শাশ্বতোহয়ং পুরাণো
ন হস্যতে হন্যমানে শরীরে ।।
জীবের আত্মা যিনি, তিনি কোন কালে জন্মেনও না, মরেনও না । ইনি হইয়া আবার যান, ইহাও নহে; অথবা না হইয়া আবার হন তাহাও নহে । হইয়া -জাত হইয়া তিরোভূত হওয়াকে লোকে মরিল বলিয়া বলে (আবার 'অভূত্বা'-না হইয়া 'ভবিতা'-হয়াকে লোকে জন্মান বলে) তাই বলা হইল আত্মার জনন মরণ নাই ; ইনি অজ ; এনি নিত্য-সর্ব্বদা একরূপ, ইনি শাশ্বত-সর্ব্বদা বর্ত্তমান ; ইনি পুরাণ-পুরা হইয়াও নব-সর্ব্বদা নতুন, অপুর্ব্ব ; শরীর হনন করিলেও ইনি হত হয়েন না ।
যিনি অজ, যিনি আব্যয়, তাঁহার সম্বন্ধেই পুনরায় বলা হইতেছে-শস্র ইহাকে কাটিতে পারে না, অগ্নি পোড়াইতে পারে না, জল ইহাকে পচাইতে পারে না, বায়ু ইহাকে শুষ্ক করিতে পারে না । ইনি আচ্ছেদ্য ; ইনি আদাহ্য ; ইনি অশোষ্য ; ইনি নিত্য, সর্ব্বব্যাপী, স্থিরস্বভাব ; ইনি চিরদিন আছেন ; ইনি ইন্দ্রিয়ের অগ্রাহ্য, চিন্তার অগোচর ; ইনি ষড়্ বিধ-বিকার-শূন্য ।
লক্ষ্য রাখিতে হইবে জীবাত্মাকে সর্ব্বগত-সর্ব্বব্যাপী বলা হইল । জীবাত্মা যেমন অজ, অব্যয়, অবিনাশী, সর্ব্বব্যাপী, পরমাত্মাও সেইরুপ । গীতা তবে দেখাইতেছেন-যিনি জীবাত্মা, তিনিই পরমাত্মা ! নতুবা উভয়েরই সর্ব্বগতত্ব, সর্ব্বব্যাপিত্ব বিশেষণ কেন দিবেন ? যিনি সর্ব্ববাব্যাপী, তিনি একই ; তিনি পূর্ণই । জীবাত্মাও পূর্ণ, আবার পরমাত্মাও পূর্ণ ; তবে জীবাত্মা ও পরমাত্মার প্রভেদ কি রহিল ? ফলে, শ্রুতি যেমন জীবাত্মাও পরমাত্মার প্রভেদ করেন না, শ্রুতি যেমন বলেন,- উপাধিগত পার্থক্য থাকিলেও বস্তুটি এক, আকাশ এক হইলেও ঘট-পটের পার্থক্য আছে বলিয়া এক আকাশকেই ঘটাকাশ, প্টাকাশ প্রভৃতি বহু নামে অভিহিত করা হয় মাত্র' সেইরুপ শ্রীগীতাও বলিতেছেন,-'আত্মা একটি হইলেও ইহাকেই কখনও বলা হয় ব্রক্ষ, কখনও ঈশ্বর, কখন জীব- এই ভিন্ন ভিন্ন নাম রূপে নির্দ্দেশ কারা হয় ।' যাঁহারা গীতাশাস্র একটু মনোযোগের সহিত আলোচনা করিবেন, তাঁহারাই এ কথা সত্য বলিয়া বুঝিবেন । সেইজন্যই গীতাকে "অদ্বৈতামৃতবধিণী" বলা হইয়াছে ।
ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত ............।।
শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতায় পার্থসারথি কে ? শ্রী গীতা ইহার পরিচয় কতদূর দিবেন, আমরা এখানে তাহার আলোচনা অসঙ্গত মনে করি না ।
গীতা শাস্রে "ভগবান্ উবাচ" এই কথায় শ্রীকৃষ্ণকেই যে লক্ষ্য করা হইয়াছে, তাহাতে কাহারও কোন সন্দেহ নাই । এই শ্রীকৃষ্ণ যে অবতার, ইনি যে মায়া-মানুষ, ইনিই যে ধর্ম্মের গ্লানি এবং অধর্ম্মের অভ্যুত্থান হইলে অবতীর্ণ হইয়া সাধুদিগের পরিত্রাণ এবং অসাধুদিগের বিনাশ সাধন করিয়া যুগে যুগে ধর্ম্ম সংস্থাপন করেন, তাহাও গীতাশাস্রে পাওয়া যায় ।
"শ্রীভগবানুবাচ"-তে পাওয়া যায়-
অজোহপি সন্নব্যইয়াত্মা ভুতানামীশ্বরোহপি সন্ ।
প্রকৃতিং স্বামধিষ্ঠায় সম্ভবামায়াত্মায়য়া ।।৪-৬
এই শ্রীভগবান্ শ্রীকৃষ্ণই অজ- জন্মরহিত ; ইনিই আবার ভূতসমূহের ঈশ্বর; ইনি আপনার প্রকৃতিতে অধিষ্ঠান করিয়া আত্মমায়া দ্বারা জন্মগ্রহণ করেন ।
এই শ্লোকে পাওয়া যাইতেছে,- যাঁহার জন্ম নাই, যিনি অব্যয় আত্মা, যিনি প্রাণীসমূহের ঈশ্বর, তিনিই তাঁহার প্রকৃতিতে অধিষ্ঠান করেন এবং আত্মমায়া প্রভাবে শ্রীকৃষ্ণরূপে জন্মগ্রহণ করেন ।
আমরা এখন জিজ্ঞাসা করি, যাঁহার জন্ম নাই, যিনি অজ, তিনি কোন্ বস্তু ?
শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতাতে জীবের আত্মাকেও অজ বলা হইয়াছে । এই জীবাত্মাই অবিনাশী, ইনিই অব্যয়, শরীরের বিনাশে ইহার বিনাশ হয় না ।
ন জায়তে ম্রিয়তে বা কদাচি-
ন্নায়ং ভুত্বা ভবিতা বা ন ভুয়ং ।
অজো নিত্যঃ শাশ্বতোহয়ং পুরাণো
ন হস্যতে হন্যমানে শরীরে ।।
জীবের আত্মা যিনি, তিনি কোন কালে জন্মেনও না, মরেনও না । ইনি হইয়া আবার যান, ইহাও নহে; অথবা না হইয়া আবার হন তাহাও নহে । হইয়া -জাত হইয়া তিরোভূত হওয়াকে লোকে মরিল বলিয়া বলে (আবার 'অভূত্বা'-না হইয়া 'ভবিতা'-হয়াকে লোকে জন্মান বলে) তাই বলা হইল আত্মার জনন মরণ নাই ; ইনি অজ ; এনি নিত্য-সর্ব্বদা একরূপ, ইনি শাশ্বত-সর্ব্বদা বর্ত্তমান ; ইনি পুরাণ-পুরা হইয়াও নব-সর্ব্বদা নতুন, অপুর্ব্ব ; শরীর হনন করিলেও ইনি হত হয়েন না ।
যিনি অজ, যিনি আব্যয়, তাঁহার সম্বন্ধেই পুনরায় বলা হইতেছে-শস্র ইহাকে কাটিতে পারে না, অগ্নি পোড়াইতে পারে না, জল ইহাকে পচাইতে পারে না, বায়ু ইহাকে শুষ্ক করিতে পারে না । ইনি আচ্ছেদ্য ; ইনি আদাহ্য ; ইনি অশোষ্য ; ইনি নিত্য, সর্ব্বব্যাপী, স্থিরস্বভাব ; ইনি চিরদিন আছেন ; ইনি ইন্দ্রিয়ের অগ্রাহ্য, চিন্তার অগোচর ; ইনি ষড়্ বিধ-বিকার-শূন্য ।
লক্ষ্য রাখিতে হইবে জীবাত্মাকে সর্ব্বগত-সর্ব্বব্যাপী বলা হইল । জীবাত্মা যেমন অজ, অব্যয়, অবিনাশী, সর্ব্বব্যাপী, পরমাত্মাও সেইরুপ । গীতা তবে দেখাইতেছেন-যিনি জীবাত্মা, তিনিই পরমাত্মা ! নতুবা উভয়েরই সর্ব্বগতত্ব, সর্ব্বব্যাপিত্ব বিশেষণ কেন দিবেন ? যিনি সর্ব্ববাব্যাপী, তিনি একই ; তিনি পূর্ণই । জীবাত্মাও পূর্ণ, আবার পরমাত্মাও পূর্ণ ; তবে জীবাত্মা ও পরমাত্মার প্রভেদ কি রহিল ? ফলে, শ্রুতি যেমন জীবাত্মাও পরমাত্মার প্রভেদ করেন না, শ্রুতি যেমন বলেন,- উপাধিগত পার্থক্য থাকিলেও বস্তুটি এক, আকাশ এক হইলেও ঘট-পটের পার্থক্য আছে বলিয়া এক আকাশকেই ঘটাকাশ, প্টাকাশ প্রভৃতি বহু নামে অভিহিত করা হয় মাত্র' সেইরুপ শ্রীগীতাও বলিতেছেন,-'আত্মা একটি হইলেও ইহাকেই কখনও বলা হয় ব্রক্ষ, কখনও ঈশ্বর, কখন জীব- এই ভিন্ন ভিন্ন নাম রূপে নির্দ্দেশ কারা হয় ।' যাঁহারা গীতাশাস্র একটু মনোযোগের সহিত আলোচনা করিবেন, তাঁহারাই এ কথা সত্য বলিয়া বুঝিবেন । সেইজন্যই গীতাকে "অদ্বৈতামৃতবধিণী" বলা হইয়াছে ।