* দ্বিতীয় কথা *
-গীতার স্থান, কাল ও পাত্র - পর্ব-৬
-গীতার স্থান, কাল ও পাত্র - পর্ব-৬
ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত ............।।
যেখানে অর্জ্জুন দুঃখ করিতেছিলেন-আত্মীয়স্বজন মরিবে, সেইখানে ভগবান্ কোন প্রকার দুর্ব্বলতার উপদেশ দিলেন না । যাহা সত্য তাহাই বলিলেন । বলিলেন তুমি পন্দিতের মত কথা কহিতেছ কিন্তু মূর্খের মত কার্য্য করিতেছ । তুমি অশোচ্য বিষয়ে শোক করিতেছ । ভীষ্ম দ্রোণাদীর দেহগুলিই কিছু ভেষ্ম দ্রোণ নহে । ইহাদের আত্মাই ইহারা । কিন্তু 'আত্মার মৃত্যু নাই; । এই সমস্ত ব্যক্তির "আত্মা"আজয় আমর । ইহাঁরা আত্মা নহে ইহাঁরা দেহ এই দেহাত্মবোধ তুমি কেন করিতেছ ? তোমর জানা উচিত আত্মা-
ন জায়তে ম্রিয়তে বা কদাচিৎ, নায়ং ভূত্বা ভবিতা বা ন ভূয়ঃ ।
অজো নিত্যঃ শাশ্বতোহয়ং পুরাণো ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে ।।
জীবের আত্মা শরীর নষ্ট হইলেও মরে না । এই আত্মার জন্ম নাই, মৃত্যু নাই । বালক যোদ্ধা প্রসিদ্ধ বীরপুরুষদিগের নিকট অস্রপরীক্ষা দিতে গিয়া যেরূপ কম্পিত হয়, বালক নক্তা জগন্মান্য পণ্ডিতমন্ডলী-মধ্যে প্রথম মুখ খুলিবার সময় যেরূপ ঘর্ম্মাক্ত-কলেবর হয়, শুষ্ক-মুখে আপন হৃদয়ে যেরূপ গুরুতর ঘাতপ্রতিঘাত উপলব্ধি করে, অর্জ্জুনের ততোধিক হইতেছে, অথচ অর্জ্জুন বিশ্ববিজয়ী মহাপুরুষ । কিরাতরুপী ভগবান্ পিনাকপাণি এই অর্জ্জুনের পরাক্রমে পরিতুষ্ট হইয়া বলিয়াছিলেন-
ভো ভো ফল্গুন ! তুষ্টোহস্মি কর্ম্মণাহপ্রতিমেন তে ।
শৌর্য্যেণানেন ধৃত্যা চ ক্ষত্রিয়ো নাস্তি তে সমঃ ।।
হে অর্জ্জুন ! তোমার কর্ম্মে বড়ই তুষ্ট হইলাম, ধৃতি ও শৌর্য্য তোমার মত ক্ষত্রিয় আর নাই । যখন কুরুক্ষেত্রযুদ্ধের অব্যবহিতপুর্ব্বে এই অর্জ্জুন বিরাট রাজকুমার উত্তরের সারথ্য করিয়াছিলেন, যখন উত্তর ভীত হইয়া ক্লীব বৃহন্নলার ভীতি উৎপাদন জন্য পুনঃ পুনঃ কৌরবসৈন্য দেখাইতেছিলেন, পুনঃ পুঃ ভীষ্ম, দ্রোণ, কর্ণ, শল্যাদি কুরিবীরগণের নামোল্লেখ করিতেছিলেন, আর বলিতেছিলেন-তুমি একাকী, কিরুপে এই প্রবল-পরাক্রম মহারথগণের সহিত যুদ্ধ করিবে, তখন যে অর্জ্জুন সগর্ব্বে বিরাট-পুত্রকে উত্তর করিয়াছিলেন-'উত্তর ! যখন দ্রৌপদী-স্বয়ংবরে লক্ষাধিক নরপতি আমায় আক্রমণ করিয়াছিল, তখন আমি একা-কে তখন আমায় সহায় হইয়াছিল ? যখন কালান্তক যমতুল্য অগণিত নিবাতকবচগণের সহিত আমি যুদ্ধ করিয়াছিলাম, কে তখন আমায় সাহায্যার্থ আসিয়াছিল ?' যে অর্জ্জুন ঐ সময়ে উত্তরকে সারথি করিয়া বহুবার ভীষ্ম দ্রোণাদি মহারথগণকে পরাস্ত করিয়াছিলেন, দুর্য্যোধনাদির প্রাণসংহার সমর্থ হইয়াও যিনি সন্মোহন-অস্রে কৌরব-শত্রুদিগকে মূচ্ছিত মাত্র করিয়াছিলেন, প্রাণসংহার করেন নাই, সেই অর্জ্জুন আজ বলিতেছেন-
"ন চ শক্লোমি অবস্থাতুম্ ভ্রমতী ইব চ মে মনঃ ।"
হে কৃষ্ণ ! হে অচ্যুত ! আমি আর অবস্থান করিতে পারিতেছি না, আমার মস্তক ঘুর্ণিত হইতেছে-
চলবে........................................................................।
No comments:
Post a Comment