* দ্বিতীয় কথা *
গীতার স্থান, কাল ও পাত্র -পর্ব-০৪ ।
ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত ............।।
পাণ্ডব-সৈন্য দেখাইতে দেখাইতে দুর্য্যোধনের মনে ভীতির সঞ্চার হইয়াছে । বিশেষ ভিতরে অন্যায় আছে । রাজা অন্তর্ভীতি আচ্ছাদন করিয়া আপনাকে আশ্বস্ত করিবার জন্য তখন আপন পক্ষের প্রধান প্রধান সেনানায়কদিগের নামোল্লেখ করিতে লাগিলেন, বলিলেন-আমার পক্ষেও আপনি, ভীষ্ম, কর্ণ, যুদ্ধবিজয়ী কৃপ, আশ্বথামা, বিকর্ণ, সোমদত্ত-পুত্র ভুরিশ্রবা এবং রাজা জয়দ্রথ আরও অনেক অনেক বীর আমার জন্য জীবনত্যাগে কৃতনিশ্চয় হইয়াছেন; ইহারা সকলেই অস্রধারী ও যুদ্ধবিশারদ । আমাদের সৈন্য ভীষ্ম কর্ত্তৃক রক্ষিত এবং অপর্য্যাপ্ত । আপনারা সকলে স্ব স্ব বিভাগ অনুসারে বুহ্য রচনা করিয়া ভীষ্মকে সর্ব্বপ্রকারে রক্ষা করুন । ভীষ্ম যখন শত্রুর সহিত যুদ্ধ করিবেন, তখন যেন কোন শত্রু তাঁহাকে আক্রমণ করিতে না পারে ।
দুর্য্যোধন নানা কথা কহিলেন,কিন্তু আচার্য্য কোন কথার উত্তর দিলেন না । দূর হইতে পিতামহ দুর্য্যোধনকে লক্ষ্য করিতেছিলেন, দুর্য্যোধনের মনের অবস্থা বুঝিলেন । ভীষ্ম পিতামহ-দ্রোণ-অপেক্ষা আত্মজন । ভয়ভীত দুর্য্যোধনের উৎসাহ জন্য তিনি শঙ্খধ্বনি করিলেন, তখন শত শত শঙ্খ, ভেরী, মাদল, পটহ, গোমুখ, প্রভৃতি রণবাদ্য একেবারে বাজিয়া উঠিল; তুমুল শব্দে আকাশ ও রণভূমি পরিপূরিত হইল । পুস্তক বন্ধ করিয়া এই দৃশ্য স্মরণ কর ।
একবার দুটি চক্ষু উন্মীলন কর, আবার দেখ কি সুন্দর- দেখ শ্বেতাশ্বযুক্ত মহারথাসীন কৃষ্ণার্জ্জুন আপন আপন শঙ্খধ্বনি করিতেছেন । শ্রীকৃষ্ণের পাঞ্চজন্যের সহিত পঞ্চ পাণ্ডবের শঙ্খ নিনাদিত হইল । দ্রুপাদাদি নরপতিগণ পৃথক্ পৃথক শঙ্খ বাদন করিলেন । অতিভৈরব সেই শঙ্খধ্বনি পৃথিবী ও আকাশ তুমুল করিয়া তুলিল, এবং ধার্ত্তরাষ্ট্রগণের হৃদয় যেন বিদীর্ণ করিতে লাগিল ।
ক্রমে রণবাদ্য মন্দীভুত হইল, আবার সেই অগনিত সৈন্য, অবৃষ্টিসংরম্ভ অম্বুবাহের ন্যায়, অনুত্তরঙ্গ জলরাশির ন্যায় গম্ভীর হইল, গীতার দ্বিতীয় দৃশ্যে স্বতন্ত্র অভিনয় অনুভব কর । উৎকট শঙ্খনিনাদে কেহই রণে ভঙ্গ দিল না, বরং স্পর্দ্ধাসহ দণ্ডায়মান রহিল । সমর-কেশরী অর্জ্জুন ক্রুদ্ধ !
বারণাবতের ভীষণ কু-অভিসন্ধি, দ্যুতক্রীড়ার নৃশংস কপটাচার, দ্রৌপদী-বস্রহরণের দারুণ আপমান, অজ্ঞাতবাসের বিজাতীয় ক্লেশ সেই ক্রোধাগ্নিতে ফুৎকার দিতেছে । অর্জ্জুন গাণ্ডীব উত্তোলন করিয়াছেন- অস্র নিক্ষেপ করিবেন, সহসা অন্য বাসনা জাগিল ।
প্রবৃত্তে শস্রসম্পাতে ধনুরুদ্যম্য পাণ্ডবঃ ।
হৃষীকেশং তদা বাক্যমিদমাহ মহীপতে ।।
অর্জ্জুন সমরার্থে অবস্থিত রাজন্য-বর্গকে দেখিতে চাহিলেন, হৃষীকেশকে বলিলেন হে অচ্যুত ! যতক্ষণ পর্য্যন্ত না আমি যুদ্ধকামী, দুর্ব্বুদ্ধি দুর্য্যোধনের হিতাকাঙ্খী এই নরপতি সমুহকে নিরীক্ষণ করি, তাবৎকাল তুমি উভয়-সেনার মধ্যে রথ স্থাপন কর ! শ্রীভগবান্ তাহাই করিলেন ।
চলবে...
No comments:
Post a Comment