* দ্বিতীয় কথা *
-গীতার স্থান, কাল ও পাত্র - পর্ব-১
ধারাবাহিক ভাবে প্রচারিত.......................।
স্থান, কাল ও পাত্র কাব্য সম্বন্ধেই আলোচিত হইয়া থাকে । গীতা কি কাব্য ? যদিও গীতা ধর্ম্মগ্রন্থ, যদিও গীতা সর্ব্ব-উপনিষদের সার, যদিও গীতা সর্ব্বশাস্রময়ী, তথাপী ইহার প্রথম অধ্যায়ে কাব্যের সমৃদ্ধ উপাদান দৃষ্ট হয় । পুজনীয় গীতা- রহস্যকার বলেন- "কাব্যাংশে ভগবদগীতা ভূতলে অতুল । স্থান, কাল ও পাত্র সম্বন্ধে এরুপ সমৃদ্ধ কাব্য আর কোথায় ?"
প্রথমেই স্থান-সম্বন্ধে আলোচনা করা যাউক । গীতার উৎপত্তি স্থান কুরুক্ষেত্রের মহাসমর-ক্ষেত্র । স্বচক্ষে দেখিয়া আইস কি এক মহাশ্মশান এই কুরুক্ষেত্র ! কি এক দুর্ব্বিষহ বিষাদগীত এইস্থানে নিরন্তর গীত হইতেছে । আজিও এই কুরুক্ষেত্রের যেদিকে অবলোকন করিবে, সর্ব্বত্রই দেখিবে বিনাশচিহ্ন । প্রাচীন বৃক্ষ, প্রাচীন কুগুতড়াগাদির কথা ছাড়িয়া দাও, নতুন যাহা কিছু হইতেছে, তাহাও যেন অক্ষুন্ন থাকে না । সমর-ক্ষেত্রে যে সমস্ত লতাগুল্ম দি জন্মিয়াছে, দেখিলে বোধ হয়। যেন রুধির হইতেই ইহার উৎপন্ন । এই স্থানেই ভগবান্ পরশুরাম একবিংশ বার ক্ষত্রিয়শোণিতে পৃথিবীকে রুধিরাক্ত করিয়াছিলেন । যে শোণিতময় পঞ্চহ্রদে তিনি পিতৃলোকের তর্পন করিয়াছিলেন, এখনও সেই পঞ্চহ্রদ পুরাকালের ইতিহাস প্রচার করিতেছে । এখনও সমন্তপঞ্চকে কত লোক প্রতিবৎসর স্নানার্থ গমন করে । কালপুরুষ কর্ত্তৃক তাড়িত হইয়া আজ অষ্টাদশ অক্ষৌহিণী সেনা কুরুক্ষেত্রে সমবেত হইয়াছে । সন্মুখে রণ-নদী- এই রণ-নদীর বর্ণনা সুন্দর !
ভীষ্ম- দ্রোণ-তটা জয়দ্রথ-জলা গান্ধার-নীলোৎপলা
শল্য-গ্রাহবতী কৃপেণ বহনী কর্ণেন বেলাকুলা ।
অশ্বথামা-বিকর্ণ-ঘোরমকরা দুর্য্যোধনাবর্ত্তিনী
সোত্তীর্ণা খলু পাণ্ডবৈ রণ-নদী কৈবর্ত্তকঃ কেশবঃ ।।
অত্যুচ্চ তটশালিনী সমরনদী দু'কুল প্লাবিত করিয়া ছুটিয়াছে । এই খরস্রোতের জলে লোথাও প্রচণ্ড আবর্ত্ত, কোথাও ভয়ঙ্কর কুম্ভীর, কোথাও বা সুন্দর নীলোৎপল ! ভীষ্ম দ্রোণ ইহারা তটভুমি, জয়দ্রথ ইহারা জলরাশি, দুর্য্যোধন প্রচণ্ড আবর্ত্ত, শল্য কুম্ভীর, কৃপ বহনী-প্রবাহ, কর্ণ বেলাভূমি, অশ্বথামা ও বিকর্ণ ঘোর মকর । পাণ্ডবদিগকে এই রণ নদীর পরপারে যাইতে হইবে স্বয়ং কেশব ইহার কৈর্বত্ত-কাণ্ডারি । সমষ্টি-ভাবে যে ভগবৎ-সাগরে এই রণ-নদী মিশিয়াছে, বিশ্বরুপ দেখাইবার সময়ে যাহা ভগবান্ ভক্তকে দেখাইয়াছেন, সেই ভগবান, ব্যষ্টিভাবে পাণ্ডব-তরণী কর্ণধাররুপে আজ আপন জলে আপনি ক্রীড়া করিতে ইচ্ছা করিয়াছে । জীবপুঞ্জকে তাড়িত করিয়া এই ভীষণ কুরুক্ষেত্রে আনয়ন করিয়াছেন । তাই বলিতেছিলাম- কুরুক্ষেত্রের মত ভীষণ সমর-ক্ষেত্র আর কোথায় ?http://www.facebook.com/SrimadbhagavadGita.Bangla...........................................................।।।চলবে
স্থান, কাল ও পাত্র কাব্য সম্বন্ধেই আলোচিত হইয়া থাকে । গীতা কি কাব্য ? যদিও গীতা ধর্ম্মগ্রন্থ, যদিও গীতা সর্ব্ব-উপনিষদের সার, যদিও গীতা সর্ব্বশাস্রময়ী, তথাপী ইহার প্রথম অধ্যায়ে কাব্যের সমৃদ্ধ উপাদান দৃষ্ট হয় । পুজনীয় গীতা- রহস্যকার বলেন- "কাব্যাংশে ভগবদগীতা ভূতলে অতুল । স্থান, কাল ও পাত্র সম্বন্ধে এরুপ সমৃদ্ধ কাব্য আর কোথায় ?"
প্রথমেই স্থান-সম্বন্ধে আলোচনা করা যাউক । গীতার উৎপত্তি স্থান কুরুক্ষেত্রের মহাসমর-ক্ষেত্র । স্বচক্ষে দেখিয়া আইস কি এক মহাশ্মশান এই কুরুক্ষেত্র ! কি এক দুর্ব্বিষহ বিষাদগীত এইস্থানে নিরন্তর গীত হইতেছে । আজিও এই কুরুক্ষেত্রের যেদিকে অবলোকন করিবে, সর্ব্বত্রই দেখিবে বিনাশচিহ্ন । প্রাচীন বৃক্ষ, প্রাচীন কুগুতড়াগাদির কথা ছাড়িয়া দাও, নতুন যাহা কিছু হইতেছে, তাহাও যেন অক্ষুন্ন থাকে না । সমর-ক্ষেত্রে যে সমস্ত লতাগুল্ম দি জন্মিয়াছে, দেখিলে বোধ হয়। যেন রুধির হইতেই ইহার উৎপন্ন । এই স্থানেই ভগবান্ পরশুরাম একবিংশ বার ক্ষত্রিয়শোণিতে পৃথিবীকে রুধিরাক্ত করিয়াছিলেন । যে শোণিতময় পঞ্চহ্রদে তিনি পিতৃলোকের তর্পন করিয়াছিলেন, এখনও সেই পঞ্চহ্রদ পুরাকালের ইতিহাস প্রচার করিতেছে । এখনও সমন্তপঞ্চকে কত লোক প্রতিবৎসর স্নানার্থ গমন করে । কালপুরুষ কর্ত্তৃক তাড়িত হইয়া আজ অষ্টাদশ অক্ষৌহিণী সেনা কুরুক্ষেত্রে সমবেত হইয়াছে । সন্মুখে রণ-নদী- এই রণ-নদীর বর্ণনা সুন্দর !
ভীষ্ম- দ্রোণ-তটা জয়দ্রথ-জলা গান্ধার-নীলোৎপলা
শল্য-গ্রাহবতী কৃপেণ বহনী কর্ণেন বেলাকুলা ।
অশ্বথামা-বিকর্ণ-ঘোরমকরা দুর্য্যোধনাবর্ত্তিনী
সোত্তীর্ণা খলু পাণ্ডবৈ রণ-নদী কৈবর্ত্তকঃ কেশবঃ ।।
অত্যুচ্চ তটশালিনী সমরনদী দু'কুল প্লাবিত করিয়া ছুটিয়াছে । এই খরস্রোতের জলে লোথাও প্রচণ্ড আবর্ত্ত, কোথাও ভয়ঙ্কর কুম্ভীর, কোথাও বা সুন্দর নীলোৎপল ! ভীষ্ম দ্রোণ ইহারা তটভুমি, জয়দ্রথ ইহারা জলরাশি, দুর্য্যোধন প্রচণ্ড আবর্ত্ত, শল্য কুম্ভীর, কৃপ বহনী-প্রবাহ, কর্ণ বেলাভূমি, অশ্বথামা ও বিকর্ণ ঘোর মকর । পাণ্ডবদিগকে এই রণ নদীর পরপারে যাইতে হইবে স্বয়ং কেশব ইহার কৈর্বত্ত-কাণ্ডারি । সমষ্টি-ভাবে যে ভগবৎ-সাগরে এই রণ-নদী মিশিয়াছে, বিশ্বরুপ দেখাইবার সময়ে যাহা ভগবান্ ভক্তকে দেখাইয়াছেন, সেই ভগবান, ব্যষ্টিভাবে পাণ্ডব-তরণী কর্ণধাররুপে আজ আপন জলে আপনি ক্রীড়া করিতে ইচ্ছা করিয়াছে । জীবপুঞ্জকে তাড়িত করিয়া এই ভীষণ কুরুক্ষেত্রে আনয়ন করিয়াছেন । তাই বলিতেছিলাম- কুরুক্ষেত্রের মত ভীষণ সমর-ক্ষেত্র আর কোথায় ?http://www.facebook.com/SrimadbhagavadGita.Bangla...........................................................।।।চলবে
No comments:
Post a Comment