*
প্রথম কথা *
-গীতার আদর -পর্ব-২
-গীতার আদর -পর্ব-২

ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত ............পর্ব-২
শ্রীগীতা রঙ্গময়ী । জগৎস্বরুপিণী বিশ্বনর্ত্তকী মায়ার অনুসরণ করা যেমন কঠিন, শ্রীগীতার অনুসরণ করাও যেন সেইরূপ দুরূহ । ভদ্রার সারথ্য-নৈপুণ্যে অর্জ্জুনের রথগতির মত, এই বিশ্বনর্ত্তকী, কথন জনমন্ডুলীর চতুর্দ্দিকে নৃত্য করেন, পরক্ষণেই অদৃশ্য হইয়া যান; মেঘের মধ্যে বিদ্যুতের খেলার মত কখন ইনি শূন্যে চমকাইতেছেন, কখন মেঘ মধ্যে লুক্কাইত হইতেছেন, সুদীর্ঘ জলাশয়ে বৃহৎ মৎস্যের মত কখন নিকটের জল আলোড়িত করিতেছেন, পরক্ষণেই আবার দূরে চলিয়া গিয়াছেন; কখন মনে হইল বুঝি ধরিলাম, পরক্ষণেই কোথায় চলিয়া গেল- শ্রীগীতার পশ্চাদ্ধাবন যেন এইরূপ বিস্ময়কর ।
জগৎস্বরুপিণী মায়ার চাঞ্চল্যাভ্যন্তরে যেমন স্থির শান্ত রমণীয় দর্শন বিরাজ করেন, শ্রীগীতাবস্ত্রান্তর্ব্যাঞ্জিত-স্তনী উপনিষদ্ দেবীও যেন এই খানে সেইরুপ অবস্থান করিতেছেন । অধিক কি বলা যাইবে, মহাকাশ, চিত্তাকাশ ও চিদাকাশ ছাইয়া শ্রীগীতার রূপরাশি ত্রিজগৎ চমৎকৃত করিতেছে ।
যিনি সমকালে স্থুল, সুক্ষ্ম, সূক্ষ্মতর, সূক্ষ্মতম, যিনি সমকালে পরমাশ্চর্য্যারুপধারিনী মায়ামানুষী, সর্ব্বনরনারীবিজড়িত সর্ব্বস্থাবরজঙ্গমসন্মিলিত বিশ্বরুপিণী, আবার আপন সৃষ্টি আপনি বিনাশ করিয়া, দৃশ্যগরল আপনি নিঃশেষ পান করিয়া, দৃশ্য-প্রপঞ্চ আপন আত্মায় নিঃশেষ পরিপাক করিয়া, যিনি আপনাতে আপনি,-তাহার সমগ্ররুপ দর্শন যে আমাদের মত ক্ষীণপুণ্য, সাধনকাতর দুর্ব্বল জীবের পক্ষে সুদুরপরাহত, ইহা কি আর বিশেষ করিয়া বলিতে হইবে ?
গীতা অধ্যয়ন এক জীবনের কেন, যতদিন না জীবন্মুক্তি লাভ না হয়, যেন তত জীবনের কার্য্যা । জীবন্মুক্তি না হওয়া পর্য্যন্ত বুঝি ইহার ভাব-ইহার স্থায়ীভাব-জীব-চৈতন্য বিন্দুকে, ব্রক্ষ-চৈতন্য সিন্ধুতে মগ্ন করিয়া রাখে না ।
মনে হয় দ্বিতীয় বারের আলোচনায় শ্রীগীতা বুঝিতে বুঝি পারা যায় না ।
যদি কাহারও শরণাপন্ন হওয়া যায়, তবে আশ্রিতকে আশ্রয়দাতার ইচ্ছা অনুসারে চলিতে হয় ; নতুবা আশ্রয় গ্রহণটা মৌখিক । যদি শ্রীগীতার আশ্রয় লইতে হয়, তবে শ্রীগীতার অভিপ্রায় অনুসারে কার্য্য করাই কর্ত্তব্য । শ্রীভগবানের অনুগ্রহ অনুভব করিতে হইলেও, তাঁহার আজ্ঞামত কার্য্য করা কর্ত্তব্য ।
কোথাও তাঁহার আজ্ঞা পাওয়া যাইবে যদি জিজ্ঞাসা করা যায়। তবে বলিতে হয়, বেদে পাওয়া যায় ; আধ্যাত্মশাস্রমাত্রেই পাওয়া যায় । গীতার মত গ্রন্থে বিশেষরূপে পাওয়া যায় ।
গীতা-শাস্র হইতে শ্রীভগবানের আজ্ঞাগুলি বাছিয়া লইয়া যিনি যেটি পালন করিতে পারেন তজ্জন্য প্রাণপণ করুন ; শ্রীগীতার অনুগ্রহ যে বুঝিতে পারিবেন এ বিষয়ে বিন্দুমাত্রও সন্দেহ নাই ।
চলবে.............
জগৎস্বরুপিণী মায়ার চাঞ্চল্যাভ্যন্তরে যেমন স্থির শান্ত রমণীয় দর্শন বিরাজ করেন, শ্রীগীতাবস্ত্রান্তর্ব্যাঞ্জিত-স্তনী উপনিষদ্ দেবীও যেন এই খানে সেইরুপ অবস্থান করিতেছেন । অধিক কি বলা যাইবে, মহাকাশ, চিত্তাকাশ ও চিদাকাশ ছাইয়া শ্রীগীতার রূপরাশি ত্রিজগৎ চমৎকৃত করিতেছে ।
যিনি সমকালে স্থুল, সুক্ষ্ম, সূক্ষ্মতর, সূক্ষ্মতম, যিনি সমকালে পরমাশ্চর্য্যারুপধারিনী মায়ামানুষী, সর্ব্বনরনারীবিজড়িত সর্ব্বস্থাবরজঙ্গমসন্মিলিত বিশ্বরুপিণী, আবার আপন সৃষ্টি আপনি বিনাশ করিয়া, দৃশ্যগরল আপনি নিঃশেষ পান করিয়া, দৃশ্য-প্রপঞ্চ আপন আত্মায় নিঃশেষ পরিপাক করিয়া, যিনি আপনাতে আপনি,-তাহার সমগ্ররুপ দর্শন যে আমাদের মত ক্ষীণপুণ্য, সাধনকাতর দুর্ব্বল জীবের পক্ষে সুদুরপরাহত, ইহা কি আর বিশেষ করিয়া বলিতে হইবে ?
গীতা অধ্যয়ন এক জীবনের কেন, যতদিন না জীবন্মুক্তি লাভ না হয়, যেন তত জীবনের কার্য্যা । জীবন্মুক্তি না হওয়া পর্য্যন্ত বুঝি ইহার ভাব-ইহার স্থায়ীভাব-জীব-চৈতন্য বিন্দুকে, ব্রক্ষ-চৈতন্য সিন্ধুতে মগ্ন করিয়া রাখে না ।
মনে হয় দ্বিতীয় বারের আলোচনায় শ্রীগীতা বুঝিতে বুঝি পারা যায় না ।
যদি কাহারও শরণাপন্ন হওয়া যায়, তবে আশ্রিতকে আশ্রয়দাতার ইচ্ছা অনুসারে চলিতে হয় ; নতুবা আশ্রয় গ্রহণটা মৌখিক । যদি শ্রীগীতার আশ্রয় লইতে হয়, তবে শ্রীগীতার অভিপ্রায় অনুসারে কার্য্য করাই কর্ত্তব্য । শ্রীভগবানের অনুগ্রহ অনুভব করিতে হইলেও, তাঁহার আজ্ঞামত কার্য্য করা কর্ত্তব্য ।
কোথাও তাঁহার আজ্ঞা পাওয়া যাইবে যদি জিজ্ঞাসা করা যায়। তবে বলিতে হয়, বেদে পাওয়া যায় ; আধ্যাত্মশাস্রমাত্রেই পাওয়া যায় । গীতার মত গ্রন্থে বিশেষরূপে পাওয়া যায় ।
গীতা-শাস্র হইতে শ্রীভগবানের আজ্ঞাগুলি বাছিয়া লইয়া যিনি যেটি পালন করিতে পারেন তজ্জন্য প্রাণপণ করুন ; শ্রীগীতার অনুগ্রহ যে বুঝিতে পারিবেন এ বিষয়ে বিন্দুমাত্রও সন্দেহ নাই ।
চলবে.............
No comments:
Post a Comment